অনলাইন ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | 26 বার পঠিত
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ব্যতিক্রমধর্মী এক বিয়ের আয়োজন ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া গ্রামে যমজ দুই বোনের সঙ্গে লক্ষ্মীপুরের যমজ দুই ভাইয়ের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বিরল এই বিয়ে দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ ভিড় করেন বিয়েবাড়িতে।
১৭ জুন বুধবার কষ্টাপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের যমজ দুই মেয়ে সুমাইয়া আক্তার লতা ও সোনিয়া আক্তার পাতার সঙ্গে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রাজিবপুর গ্রামের নুরুল আলমের যমজ দুই ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুল জব্বারের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, লতা ও পাতা দুজনই এইচএসসি পরীক্ষার্থী। পারিবারিকভাবে তিন লাখ টাকা করে মোট ছয় লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে দুবাইপ্রবাসী আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে লতা এবং আব্দুল জব্বারের সঙ্গে পাতার বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, যমজ দুই ভাইয়ের সঙ্গে যমজ দুই বোনের বিয়ে সচরাচর দেখা যায় না। এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন প্রত্যক্ষ করতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ বিয়েবাড়িতে ভিড় করেন। নবদম্পতির সুখী ও সমৃদ্ধ দাম্পত্য জীবনের জন্য সবাই দোয়া করেন।
নববধূ সুমাইয়া আক্তার লতা ও সোনিয়া আক্তার পাতা জানান, তারা ছোটবেলা থেকেই একসঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতিই যেন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। একই দিনে দুই ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে হবে— এমনটি কখনো কল্পনাও করেননি। এতে তারা খুবই আনন্দিত।
অন্যদিকে যমজ দুই ভাই রাজ্জাক ও জব্বার বলেন, তারা একসঙ্গে বড় হয়েছেন এবং সবসময়ই যমজ দুই বোনকে বিয়ে করার ইচ্ছা ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লতা ও পাতার সঙ্গে পরিচয়ের পর বিষয়টি পরিবারকে জানানো হয়। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হয়।
লতা-পাতার চাচা রফিকুল ইসলাম মনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় এক শিক্ষকের মাধ্যমে যমজ দুই পাত্রের সন্ধান পাওয়া যায়। দুই পরিবার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করায় বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়।
যমজ দুই ছেলের বাবা নুরুল আলম বলেন, “ভাবিনি যমজ দুই পুত্রবধূ পাব। আল্লাহর অশেষ রহমতে এমন সুন্দর মিলন সম্ভব হয়েছে। আমি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি এবং সবার কাছে নবদম্পতির জন্য দোয়া কামনা করছি।”
ব্যতিক্রমী এই বিয়ে এখন ভূঞাপুরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি বিয়ে নয়, বরং এক বিরল কাকতালীয় মিলনের গল্প।
Posted ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah